সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির কারণ কি?

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির কারণ কি?

শিশুর-অস্বাভাবিক-কান্নাকাটি-নবজাতক-হাসপাতাল
শিশুর-অস্বাভাবিক-কান্নাকাটি-নবজাতক-হাসপাতাল

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির কারণ কি? জেনে নিন বিস্তারিত

নবজাতক বা ছোট শিশুর কান্না স্বাভাবিক একটি বিষয়। কারণ কথা বলতে না পারার কারণে কান্না দিয়েই তারা তাদের ক্ষুধা, অস্বস্তি বা অনুভূতির প্রকাশ করে। কিন্তু দিনের বেলা শিশু শান্ত থাকলেও সন্ধ্যার পর বা রাতের শুরুতে যদি হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই অকারণে অস্বাভাবিকভাবে কান্নাকাটি শুরু করে, তবে তা বাবা-মাকে ভীষণ উদ্বিগ্ন করে তোলে। একে অনেক সময় চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘পার্পল ক্রাইং’ বা সন্ধ্যার সময়ের অতিরিক্ত কান্নাকাটি বলা হয়ে থাকে।

বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল (Nobojatok Hospital)-এর শিশু বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত আলোচনা করব কেন সন্ধ্যার পর শিশুরা এমন আচরণ করে এবং এ থেকে উত্তরণের উপায় কী।

শিশুর কান্না কেন স্বাভাবিক?

ছোট শিশুরা তাদের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে কান্নাকে বেছে নেয়। জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস তাদের চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। খিদে পাওয়া, ভেজা ডায়াপার পরিবর্তন করা বা সামান্য অস্বস্তিতে তারা কেঁদে ওঠে। তবে এই কান্না যখন কোনোভাবেই থামানো যায় না এবং বিশেষ করে সন্ধ্যার সময় বা রাতে তীব্র আকার ধারণ করে, তখন তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

সন্ধ্যার পর শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির সম্ভাব্য কারণ

সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে শিশুদের স্নায়ু এবং হজম প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন আসে। নিচে প্রধান কারণগুলো আলোচনা করা হলো:

১. কোলিক (Colic) বা পেটের অস্বস্তি

নবজাতকদের ক্ষেত্রে সন্ধ্যার কান্নাকাটির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ইনফ্যান্টাইল কোলিক। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত সুস্থ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া সত্ত্বেও কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া যদি কোনো শিশু দিনে অন্তত ৩ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৩ দিন এবং টানা ৩ সপ্তাহ ধরে এভাবে কাঁদে, তবে তাকে কোলিক বলা হয়। কোলিকের ব্যথা সাধারণত বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে বেশি বাড়ে।

২. পেটে গ্যাস জমা

দিনের বেলা মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বা ফর্মুলা মিল্ক ফিডিংয়ের সময় শিশুরা অনেক সময় অতিরিক্ত বাতাস গিলে ফেলে। এই বাতাস শিশুর কোমল পেটে জমে গ্যাস ও ফাঁপা ভাবের সৃষ্টি করে। সন্ধ্যার দিকে এই গ্যাসের ব্যথা তীব্র হলে শিশু তীব্রভাবে পা গুটিয়ে ও সজোরে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের পেটের গ্যাস ও বদহজম সংক্রান্ত গাইড পড়তে পারেন পেটের গ্যাস ও বদহজম রোধে করণীয়।

৩. অতিরিক্ত ক্লান্তি (Over-tiredness)

সারাদিনের কোলাহল, আলো, শব্দ এবং বিভিন্ন মানুষের কোলে যাওয়ার কারণে শিশুর স্নায়ুতন্ত্র অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সারাদিন পর্যাপ্ত ঘুমাতে না পারলে বা বিশ্রামের অভাব হলে সন্ধ্যার সময় শিশুরা খিটখিটে হয়ে পড়ে এবং ঘুমানোর আগে অতিরিক্ত কান্নাকাটি শুরু করে দেয়।

৪. অতিরিক্ত উত্তেজনা বা পরিবেশগত পরিবর্তন

সন্ধ্যা বা রাতের সময় ঘরের পরিবেশ, আলো বা মানুষের আনাগোনা কিছুটা পরিবর্তিত হয়। অতিরিক্ত আওয়াজ বা উজ্জ্বল আলো নবজাতকের সংবেদনশীল মনকে অস্থির করে তোলে, যা কান্নার কারণ হতে পারে।

৫. ক্ষুধা বা ফিডিং সমস্যা

সন্ধ্যার সময় অনেক মায়ের বুকের দুধের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে বা শিশু সঠিকভাবে মিল্ক ফিডিং সম্পন্ন করতে না পারায় ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ে। এই কারণে বারবার স্তন্যপান বা ফিডিংয়ের চাহিদা মেটাতে না পেরে সে কান্নাকাটি করতে পারে।

৬. ডায়াপার বা শারীরিক অস্বস্তি

দীর্ঘক্ষণ একই ডায়াপার পরে থাকা, জামাকাপড়ের কোনো সেলাই বা সুতা গায়ে লাগা, কিংবা ঘরের তাপমাত্রা গরম বা ঠান্ডা হওয়ার কারণেও শিশু অস্বস্তি বোধ করতে পারে।

কখন এই কান্না স্বাভাবিক ধরা হয়?

সাধারণত সুস্থ ও স্বাভাবিক ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া শিশু যদি দিনে স্বাভাবিক থাকে, ঠিকমতো দুধ খায়, ওজন বাড়ে এবং নির্দিষ্ট সময় কান্নার পর নিজে নিজেই শান্ত হয়ে যায়, তবে চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে কান্নার সাথে যদি জ্বর, বমি, পাতলা পায়খানা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ থাকে, তবে তা আর স্বাভাবিক কান্নাকাটি হিসেবে ধরা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশুদের সাধারণ রোগব্যাধি ও পরিচর্যা সম্পর্কে আরও জানতে আমাদের শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ ঘুরে দেখতে পারেন শিশুর যত্ন ও পরিচর্যা নির্দেশিকা।

শিশুর কান্না কমাতে কী করবেন?

সন্ধ্যায় বা রাতে যখন শিশু অস্বাভাবিকভাবে কাঁদতে শুরু করে, তখন তাকে শান্ত করতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে পারেন:

  • খাওয়ানোর পর ঢেঁকুর তুলতে সাহায্য করুন: দুধ খাওয়ানোর পরপরই শিশুকে কাঁধে নিয়ে পিঠে হালকা চাপড় দিয়ে ঢেঁকুর তুলুন। এটি পেটের গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে।

  • হালকা ম্যাসাজ করতে পারেন: হালকা গরম তেল দিয়ে শিশুর পেটে ঘড়ির কাঁটার দিকে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এতে পেটের কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস থেকে স্বস্তি মেলে।

  • কোলে নিয়ে হাঁটুন: শিশুকে আপনার বুকে জড়িয়ে ধরে ঘরের ভেতর ধীরে ধীরে হাঁটুন। মৃদু ছন্দ বা দোলনা দিলে শিশু দ্রুত শান্ত হয়।

  • শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন: সন্ধ্যার সময় ঘরের অতিরিক্ত আলো কমিয়ে দিন, টিভিসি বা কোলাহলপূর্ণ শব্দ বন্ধ করে একটি স্নিগ্ধ ও শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন।

  • নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটি সময়ে শিশুকে ঘুমানোর অভ্যাস করান। শোয়ার ঘরের পরিবেশ যেন আরামদায়ক ও শান্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

শিশুর অস্বাভাবিক কান্নাকাটির নবজাতক হাসপাতাল কেন বেছে নেবেন?

নবজাতক ও শিশুদের যেকোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা বা অস্বাভাবিক আচরণের সঠিক কারণ নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকার অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতাল (Nobojatok Hospital)-এ রয়েছে অভিজ্ঞ শিশু বিশেষজ্ঞ, নিওনাটোলজিস্ট এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসাসেবা। নবজাতকের কোলিক সমস্যা, পেটের গ্যাস, জন্ডিস কিংবা যেকোনো জটিল নবজাতক জনিত সমস্যায় আমরা দিচ্ছি সর্বাধুনিক ও নিবেদিত সেবা।

আপনার শিশুর যেকোনো স্বাস্থ্যগত জটিলতায় আজই আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং আপনার সন্তানকে রাখুন সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ।

Leave a Reply