শীতে নবজাতকের যত্ন: করণীয় ও পরিচর্যা
শীত এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয় এক চেনা দুশ্চিন্তা: “বাচ্চার ঠান্ডা লেগে যাবে না তো?” নতুন মা-বাবার জন্য এই দুশ্চিন্তা আরও বেশি, কারণ নবজাতকের শরীর নিজে নিজে তাপমাত্রা ধরে রাখতে এখনো পুরোপুরি তৈরি নয়। তাই শীতে নবজাতকের যত্নে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ভালো খবর হলো, কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে শীতেও শিশুকে নিরাপদ, উষ্ণ ও সুস্থ রাখা যায়। তবে একটি ভুল ধারণা থেকেও সাবধান থাকতে হবে: শিশুকে বেশি মুড়িয়ে রাখা মানেই বেশি নিরাপদ নয়। এই লেখায় জানবেন এই শীতে যেসব শিশুর জন্ম, তাদের যত্ন নেবেন কীভাবে, ত্বকের পরিচর্যা, গোসল, ঘুম, খাওয়ানো, বিপদের লক্ষণ এবং সবে মা হয়েছেন? এই শীতে নবজাতক ও নিজেকে সুস্থ রাখতে কী করবেন।
এই লেখায় যা জানবেন
- শীতে নবজাতকের বাড়তি যত্ন কেন দরকার?
- শীতে কীভাবে শিশুকে উষ্ণ রাখবেন
- শীতে নবজাতকের পোশাক
- শীতে নবজাতকের ত্বকের যত্ন
- শীতে গোসল ও তেল মালিশ
- খাওয়ানো ও পুষ্টি
- নিরাপদ ঘুম ও ঘর গরম রাখার সতর্কতা
- সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা
- বিপদের লক্ষণ ও কখন ডাক্তার দেখাবেন
- অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর বাড়তি যত্ন
- সবে মা হয়েছেন? নিজের যত্ন
- সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

শীতে নবজাতকের বাড়তি যত্ন কেন দরকার?
নবজাতক শিশুর শরীর শীতে সহজে ঠান্ডা হয়ে যায়। এর কারণ:
- শরীরের তুলনায় ত্বকের পরিমাণ বেশি। ফলে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায়।
- চর্বির স্তর পাতলা, বিশেষ করে অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর।
- কাঁপুনি দিয়ে শরীর গরম রাখার ক্ষমতা সীমিত।
- প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠার পথে, তাই সর্দি-কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সহজে হতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে গেলে একে হাইপোথার্মিয়া বলে। এটি নবজাতকের জন্য গুরুতর হতে পারে। শীতে একটু বাড়তি সতর্ক থাকলেই এ ঝুঁকি এড়ানো যায়।
শীতে কীভাবে শিশুকে উষ্ণ রাখবেন? শীতে শিশুর যত্নের টিপস
১. ত্বকে ত্বক ছোঁয়া (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার)
শিশুকে মায়ের খালি বুকে ত্বকে ত্বক লাগিয়ে রাখা শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখার সবচেয়ে প্রাকৃতিক ও কার্যকর উপায়। এতে শিশুর তাপমাত্রা স্থির থাকে, বুকের দুধ খাওয়া সহজ হয় এবং মা ও শিশুর বন্ধন গাঢ় হয়। বাবাও এটি করতে পারেন। ওপরে ঢিলা কাপড় বা চাদর দিয়ে ঢেকে দিন।
২. ঘর আরামদায়ক উষ্ণ রাখুন
- ঘর যেন খুব ঠান্ডা না হয়, আবার গরমও না হয়। আরামদায়ক তাপমাত্রা রাখুন
- সরাসরি ঠান্ডা বাতাস, খোলা জানালা বা ফ্যানের বাতাস শিশুর গায়ে না লাগে
- কুয়াশা ও ভোরের হিমেল বাতাসে শিশুকে বাইরে নেবেন না
- ঘরের মেঝে ঠান্ডা হলে শিশুকে সরাসরি মেঝেতে রাখবেন না
৩. মাথা, হাত ও পা ঢেকে রাখুন
শিশুর শরীরের তাপ বেশি বের হয় মাথা দিয়ে। তাই টুপি, হাত-মোজা ও পা-মোজা পরান। ঘরের ভেতরেও পাতলা সুতির টুপি ভালো।
৪. শিশু ঠান্ডা না গরম, বুঝবেন কীভাবে?
শিশুর বুক ও পিঠে আলতো হাত দিন। সেখানে উষ্ণ ও শুকনো লাগলে ঠিক আছে। ঘাম হলে বা অতিরিক্ত গরম লাগলে একটি স্তর খুলুন। হাত-পা কিছুটা ঠান্ডা হওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক। হাত-পা দেখে নয়, বুক ও পেট ছুঁয়ে তাপ বুঝুন। বুক বা পেট ঠান্ডা লাগলে শিশুকে দ্রুত গরম করুন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৫. ভেজা কাপড় সাথে সাথে বদলান
প্রস্রাব-পায়খানায় ভেজা নেপি বা জামা শিশুকে দ্রুত ঠান্ডা করে দেয়। ভিজলেই বদলান।
শীতে নবজাতকের পোশাক
- স্তরে স্তরে পরান। ভেতরে নরম সুতির জামা, তার ওপর হালকা সোয়েটার বা গরম জামা, দরকার হলে ওপরে একটি কাঁথা বা চাদর। ঘরে ঢুকলে বা শিশু ঘেমে গেলে একটি স্তর খুলুন
- সবচেয়ে ভেতরের কাপড় নরম সুতির হওয়া উচিত। উল বা খসখসে সোয়েটার সরাসরি ত্বকে পরাবেন না, এতে ত্বকে ফুসকুড়ি ও চুলকানি হতে পারে
- বেশি টাইট বা ভারী কাপড় এড়ান। শিশুর হাত-পা নড়াচড়ার জায়গা থাকা জরুরি
- অতিরিক্ত মুড়িয়ে রাখবেন না। বেশি গরম হয়ে গেলে ঘাম, ফুসকুড়ি, অস্থিরতা, এমনকি জীবনঝুঁকি বাড়তে পারে। সাধারণ নিয়ম: ঘরের আবহাওয়ায় আপনি যতটা পোশাকে আরাম পান, শিশুকে তার সাথে আরও একটি পাতলা স্তর বেশি পরান
- নতুন কাপড় ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে পরান। কড়া সুগন্ধি সাবান বা ডিটারজেন্ট এড়ান
- টুপি ও মোজা ঘুমের সময়ও প্রয়োজনে পরিয়ে রাখা যায়, তবে মুখ ও নাক কখনো ঢাকবেন না
শীতে নবজাতকের ত্বকের যত্ন
শীতে ত্বকের যত্ন কিভাবে নেবেন? শীতের শুষ্ক বাতাসে নবজাতকের কোমল ত্বক সহজে রুক্ষ, ফাটা ও খসখসে হয়ে যায়।
ত্বক শুষ্ক হলে কী করবেন
- গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই সুগন্ধিমুক্ত, নরম ময়েশ্চারাইজার বা বেবি লোশন লাগান। এতে আর্দ্রতা আটকে থাকে
- ঠোঁট ফাটলে অল্প পরিমাণ শিশুর উপযোগী নিরাপদ ক্রিম বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যায়। তবে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে মুছে নিন
- গাল ও হাতের পিঠ বেশি শুষ্ক হয়, সেখানে বাড়তি নজর দিন
- ঘরে সম্ভব হলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখুন। ঘরে ভেজা কাপড় বা পানির পাত্র রেখে দেওয়া যায়, তবে শিশুর নাগালের বাইরে
- সাবান কম ব্যবহার করুন, শিশুর উপযোগী মৃদু (pH-সামঞ্জস্যপূর্ণ) পণ্য বেছে নিন
ত্বকের সাধারণ শীতকালীন সমস্যা
- রুক্ষ ও ফাটা ত্বক, ঠোঁট ফাটা: ময়েশ্চারাইজার ও পর্যাপ্ত বুকের দুধ
- ন্যাপি র্যাশ: ভেজা নেপি দ্রুত বদলানো, ত্বক পরিষ্কার-শুকনো রাখা ও প্রয়োজনে চিকিৎসকের দেওয়া ক্রিম
- গরম বা ঘামে ঘামাচি: বেশি কাপড় পরানোর ফল, তাই একটি স্তর কমান
- ফুসকুড়ি, লালচে ভাব, চুলকানি বা ফাটা জায়গা থেকে রস পড়লে চিকিৎসক দেখান। এটি একজিমা বা সংক্রমণও হতে পারে
কোনো ক্রিম বা লোশন ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় পরীক্ষা করে দেখুন।
শীতে গোসল ও তেল মালিশ
শীতে গোসল
- গোসল করানোর আগে সবকিছু হাতের কাছে গুছিয়ে নিন, যাতে ঠান্ডা না লাগে। ঘর ঠান্ডা বাতাসমুক্ত ও আরামদায়ক উষ্ণ রাখুন
- গরম নয়, কুসুম গরম পানি। কনুই বা কব্জির ভেতরের দিক দিয়ে পরীক্ষা করুন
- সংক্ষিপ্ত রাখুন, দীর্ঘক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না
- নাভির দড়ি না পড়া পর্যন্ত চিকিৎসকের পরামর্শমতো শরীর মুছে (স্পঞ্জ বাথ) পরিষ্কার করা নিরাপদ
- শীত বেশি পড়লে প্রতিদিন গোসল জরুরি নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সপ্তাহে কয়েকবার, আর বাকি দিনগুলোতে মুখ, ঘাড়, হাত ও নেপি এলাকা নরম ভেজা কাপড়ে মুছে দেওয়া যায়
- গোসলের সাথে সাথে নরম শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুড়ে ভালোভাবে মুছুন, বিশেষ করে ভাঁজগুলো (ঘাড়, বগল, কুঁচকি), তারপর মাথা ঢেকে দ্রুত পোশাক পরান
- গোসলের সময় শিশুকে একা ফেলে যাবেন না
তেল মালিশ
আমাদের সমাজে শিশুকে তেল মালিশ করার প্রচলন আছে। কিছু বিষয় মনে রাখবেন:
- মালিশের আগে ঘর উষ্ণ করুন। ঠান্ডা ঘরে খালি গায়ে মালিশ করলে শিশু ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে
- মালিশ হোক খুব আলতো হাতে। জোরে চাপ বা টানাটানি ক্ষতিকর হতে পারে
- কোন তেল ব্যবহার করবেন, তা চিকিৎসকের পরামর্শে ঠিক করুন। সবার ত্বক এক রকম নয়। অনেক চিকিৎসক নবজাতকের কোমল ত্বকে সরিষার তেলের ঝাঁঝের কারণে ত্বক জ্বালা ও র্যাশের ঝুঁকির কথা বলেন, তাই শিশুর উপযোগী মৃদু তেল বা লোশন বেছে নিন
- তেল মাখানোর পর ঠান্ডা না লাগে সে জন্য দ্রুত কাপড় পরিয়ে দিন
- নাভির কাছে বা কাটা-ছেঁড়া জায়গায় তেল দেবেন না। নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন
শীতের রোদ
সকালের কোমল রোদে অল্প সময় শিশুকে রাখলে শরীর উষ্ণ হয় এবং ভিটামিন ডি পেতে সাহায্য করে। তবে কড়া রোদ বা দীর্ঘ সময় নয়, চোখে সরাসরি রোদ লাগাবেন না। শিশুর জন্ডিস হলে রোদে রাখা চিকিৎসার বিকল্প নয়। জন্ডিসে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দেখুন নবজাতকের জন্ডিস (আসল স্লাগ বসান)।
শীতে খাওয়ানো ও পুষ্টি
- প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ। পানি, মধু, গুড় বা অন্য কিছু খাওয়াবেন না। শীতে শিশুর পানির তৃষ্ণা কম মনে হলেও বুকের দুধেই তরলের চাহিদা মেটে
- ঘনঘন খাওয়ান, দিনে ও রাতে। নিয়মিত দুধ শিশুকে শক্তি দেয়, যা শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে
- শিশু দুধ খেতে না চাইলে বা চুষতে দুর্বল হলে সেটি বিপদের লক্ষণ, দেরি না করে ডাক্তার দেখান
- বুকের দুধ ঠিকমতো না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে থেকে ফর্মুলা বা অন্য খাবার শুরু করবেন না
- খাওয়ানোর সময় নিজে আরাম করে বসুন এবং শিশুকে ঢেকে রাখুন, যাতে খোলা গায়ে ঠান্ডা না লাগে
- খাওয়ানোর পর শিশুকে কাঁধে নিয়ে আলতো চাপড়ে ঢেঁকুর তোলান
নিরাপদ ঘুম ও ঘর গরম রাখার সতর্কতা
শীতে ভুল ঘুমের পরিবেশ শিশুর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- শিশুকে চিৎ করে শোয়ান, শক্ত ও সমতল বিছানায়
- বিছানায় মোটা কম্বল, বালিশ, নরম খেলনা বা গদি রাখবেন না, যাতে শিশুর মুখ ঢেকে না যায়। কাঁথা বা কম্বল শিশুর বুকের নিচে পর্যন্ত রাখুন, মুখ ও মাথা ঢাকবেন না
- নিজের সাথে এক বিছানায় শোয়ানো এড়ান। তার বদলে শিশুকে আলাদা কোলবালিশ ছাড়া নিরাপদ বিছানায় আপনার পাশে রাখুন
- হিটার, গরম পানির বোতল বা ইলেকট্রিক ব্ল্যাঙ্কেট সরাসরি শিশুর কাছে বা বিছানায় রাখবেন না। পুড়ে যাওয়ার ও অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকি আছে
- বদ্ধ ঘরে কয়লা, কাঠ বা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রাখবেন না। এতে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শিশুর জীবনঝুঁকি হতে পারে
- ধূমপান শিশুর কাছে বা ঘরে করবেন না। ধোঁয়া শিশুর শ্বাসনালির জন্য ক্ষতিকর
- ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুর ঘাড় ও পিঠে হাত দিয়ে দেখুন, ঘামছে না ঠান্ডা, তাপ ঠিক আছে কি না
সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা
শীতে সর্দি-কাশি, ব্রংকিওলাইটিস ও নিউমোনিয়ার মতো শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ে।
- শিশুকে ধরার আগে সাবান-পানিতে হাত ধুয়ে নিন। এটি সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সুরক্ষা
- অতিথি সীমিত রাখুন। সর্দি-কাশি বা জ্বর থাকলে কাউকে শিশুর কাছে আসতে দেবেন না। শিশুকে চুমু খাওয়া বা মুখের কাছে মুখ নেওয়া এড়ান
- ভিড়ভাট ও দূষিত জায়গা এড়ান। অত্যন্ত প্রয়োজন না হলে শিশুকে বাইরে নেবেন না
- নিজের সর্দি-কাশি থাকলে মাস্ক পরে শিশুকে দুধ খাওয়ান ও যত্ন নিন, হাত ধুয়ে নিন
- টিকা সময়মতো দিন। জন্মের পর নির্ধারিত টিকা ও পরবর্তী ডোজ বাদ দেবেন না। দেখুন শিশুদের টিকা (আসল স্লাগ বসান)
- নাক বন্ধ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে লবণ-পানির ফোঁটা ব্যবহার করা যায়। নিজে থেকে নাকে ফোঁটা বা ওষুধ দেবেন না
- ঘরে ধুলো ও ধোঁয়া কমান
বিপদের লক্ষণ ও কখন ডাক্তার দেখাবেন
নবজাতক শিশুর যত্নে বাড়তি সতর্কতা মানে হলো সময়মতো বিপদের লক্ষণ চেনা। নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখলে দেরি না করে হাসপাতালে যান:
ঠান্ডা লেগে যাওয়ার বা হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ
- বুক বা পেট ঠান্ডা লাগা, হাত-পা বেশি ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে
- অস্বাভাবিক নেতিয়ে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমকাতুরে
- কান্না দুর্বল বা একদম কাঁদছে না
- দুধ না খাওয়া বা চুষতে না পারা
- ত্বক ফ্যাকাশে বা নীলচে
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের লক্ষণ
- দ্রুত শ্বাস নেওয়া (দুই মাসের কম বয়সী শিশুর মিনিটে ৬০ বার বা তার বেশি শ্বাস দেখলে সতর্ক হোন)
- শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরে ঢুকে যাওয়া
- ঘড়ঘড় বা শিস দেওয়ার মতো শব্দ
- ঠোঁট বা মুখ নীল হয়ে যাওয়া
- ক্রমাগত কাশি
অন্যান্য জরুরি লক্ষণ
- নবজাতকের জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক কমে যাওয়া: একে সবসময় জরুরি ধরুন
- খিঁচুনি
- বারবার বমি বা পেট ফোলা
- ত্বক বা চোখ হলদে হওয়া
- নাভি লাল, ফোলা বা পুঁজ বের হওয়া
- প্রস্রাব কম হওয়া (দিনে ৬ বারের কম ভেজা নেপি)
ঘরোয়া টোটকা বা ওষুধে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে আসুন।
এই শীতে যেসব শিশুর জন্ম: অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর বাড়তি যত্ন
এই শীতে যেসব শিশুর জন্ম, তাদের যত্ন নেবেন কীভাবে? বিশেষ করে অপরিণত ও কম ওজনের শিশুর শীতে ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের শরীরে চর্বির মজুদ খুব কম।
- ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার এদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসক ও নার্সের নির্দেশনা মেনে দিনে যতক্ষণ সম্ভব শিশুকে মায়ের বুকে রাখুন
- হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর নিয়মিত ফলো-আপ ও ওজন মাপা জরুরি
- বাড়ির বাইরে যাওয়া ও অতিথি আরও সীমিত রাখুন
- বুকের দুধ ও চিকিৎসকের দেওয়া সম্পূরক নিয়মিত খাওয়ান
- সামান্যতম বিপদের লক্ষণেও দেরি করবেন না
- বিস্তারিত জানতে পড়ুন প্রিম্যাচিউর শিশুর যত্ন (আসল স্লাগ বসান)
সবে মা হয়েছেন? এই শীতে নবজাতক ও নিজেকে সুস্থ রাখতে মেনে চলুন সহজ নিয়ম
সন্তান জন্মের পর মা নিজেকে সবার শেষে রাখেন। অথচ মা সুস্থ থাকলেই শিশু ভালো থাকে। শীতে নিজের জন্য এই নিয়মগুলো মানুন:
- নিজেকে উষ্ণ রাখুন। শীতের কাপড় পরুন, ঠান্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটবেন না
- পুষ্টিকর খাবার খান। ভাত-রুটির পাশাপাশি ডাল, মাছ, ডিম, দুধ, শাকসবজি ও মৌসুমি ফল। বুকের দুধ খাওয়ালে বাড়তি পুষ্টির প্রয়োজন
- পর্যাপ্ত পানি ও গরম তরল পান করুন। স্যুপ, কুসুম গরম পানি বা ঝোলজাতীয় খাবার
- বিশ্রাম নিন। শিশু ঘুমালে আপনিও একটু ঘুমানোর চেষ্টা করুন। কাজ ভাগ করে নিতে পরিবারের সাহায্য নিন
- চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ও সম্পূরক (আয়রন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি) নিয়মিত খান। দেখুন প্রসবপূর্ব যত্ন (আসল স্লাগ বসান)
- সংক্রমণ থেকে সাবধান। সিজারিয়ান বা সেলাইয়ের ক্ষত পরিষ্কার-শুকনো রাখুন
- প্রসব-পরবর্তী ফলো-আপ বাদ দেবেন না
- নিজের মনের যত্ন নিন। প্রসবের পর মন খারাপ, কান্না বা ঘুম না আসা অনেক মায়ের হয়। এই অবস্থা কয়েক সপ্তাহ ছাপিয়ে গেলে বা তীব্র হলে লুকাবেন না, চিকিৎসক বা আপনজনকে জানান
- মায়ের নিজের বিপদের লক্ষণে (অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, তীব্র জ্বর, ক্ষত থেকে পুঁজ, তীব্র মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্ট) দ্রুত হাসপাতালে যান
নবজাতক শিশুর যত্ন কিভাবে নেয়? শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুর জন্য মূল নিয়ম
সংক্ষেপে নবজাতকের যত্নে যা সবসময় মনে রাখবেন:
- বুকের দুধ, জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব, প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ
- উষ্ণতা রক্ষা: শিশুকে ঠান্ডা থেকে বাঁচান, আবার অতিরিক্ত গরমও এড়ান
- পরিচ্ছন্নতা: হাত ধোয়া, নাভি শুকনো ও পরিষ্কার রাখা
- নিরাপদ ঘুম: চিৎ করে, শক্ত বিছানায়
- সময়মতো টিকা
- নিয়মিত ফলো-আপ ও ওজন পর্যবেক্ষণ
- বিপদের লক্ষণ চেনা ও দেরি না করা
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. শীতে নবজাতকের যত্ন কীভাবে নেবেন?
শিশুকে স্তরে স্তরে নরম সুতির পোশাক পরান, মাথা-হাত-পা ঢেকে রাখুন, ঘর আরামদায়ক উষ্ণ রাখুন, ঘনঘন বুকের দুধ খাওয়ান, ত্বকে ময়েশ্চারাইজার লাগান ও সংক্রমণ থেকে দূরে রাখুন।
২. শীতে শিশুকে উষ্ণ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় কী?
মায়ের বা বাবার বুকে ত্বকে ত্বক লাগিয়ে রাখা (ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার), সাথে টুপি-মোজা ও স্তরে পোশাক।
৩. শিশুকে বেশি কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা কি ভালো?
না। অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে ঘামাচি, অস্থিরতা ও জীবনঝুঁকি হতে পারে। বুক ও পিঠে হাত দিয়ে তাপ পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো স্তর কমান-বাড়ান।
৪. শীতে নবজাতকের ত্বকের যত্ন কীভাবে নেবেন?
গোসলের পর সুগন্ধিমুক্ত ময়েশ্চারাইজার লাগান, কড়া সাবান এড়ান, ঠোঁট ফাটলে শিশুর উপযোগী ক্রিম ব্যবহার করুন ও ঘরে আর্দ্রতা বজায় রাখুন।
৫. শীতে কি নবজাতককে প্রতিদিন গোসল করানো দরকার?
না। শীত বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সপ্তাহে কয়েকবার গোসল করিয়ে বাকি দিনগুলো নরম ভেজা কাপড়ে মুছে দেওয়া যায়। নাভির দড়ি না পড়া পর্যন্ত স্পঞ্জ বাথ নিরাপদ।
৬. শীতে নবজাতককে তেল মালিশ করা কি ঠিক?
আলতো হাতে, উষ্ণ ঘরে, শিশুর উপযোগী মৃদু তেল দিয়ে করা যায়। কোন তেল ব্যবহার করবেন, তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
৭. শিশুর হাত-পা ঠান্ডা লাগলে কি ভয় পাওয়ার কিছু আছে?
হাত-পা কিছুটা ঠান্ডা হওয়া অনেক সময় স্বাভাবিক। বুক বা পেট ঠান্ডা লাগলে, শিশু নেতিয়ে পড়লে বা দুধ না খেলে সেটি বিপদের লক্ষণ, দ্রুত চিকিৎসা নিন।
৮. নবজাতকের ঠান্ডা লাগলে কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
শরীর ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে, নেতিয়ে থাকা, দুর্বল কান্না, দুধ খেতে না চাওয়া, শ্বাসকষ্ট ও ঠোঁট নীল হওয়া।
৯. শীতে ঘর গরম রাখতে কয়লা বা কাঠের চুলা জ্বালানো যাবে?
বদ্ধ ঘরে নয়। এতে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি আছে, যা শিশুর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। হিটার বা গরম পানির বোতলও শিশুর কাছে রাখবেন না।
১০. অপরিণত শিশুর শীতে বাড়তি কী যত্ন দরকার?
ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার, নিয়মিত ফলো-আপ, অতিথি ও বাইরে যাওয়া সীমিত করা এবং বিপদের লক্ষণে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া।
১১. সবে মা হয়েছেন, শীতে নিজের যত্ন কীভাবে নেবেন?
উষ্ণ থাকুন, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি খান, বিশ্রাম নিন, ওষুধ নিয়মিত খান, ফলো-আপ করান ও মন খারাপ বেশি হলে সাহায্য চান।
১২. কখন শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে?
শরীর ঠান্ডা, নেতিয়ে থাকা, দুধ না খাওয়া, দ্রুত শ্বাস, বুক ঢুকে যাওয়া, জ্বর, খিঁচুনি, বারবার বমি বা নাভি লাল হলে এখনই।
শীতে আপনার শিশুর পাশে আমরা আছি
শীতে নবজাতকের যেকোনো অস্বাভাবিকতায় দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালে নবজাতক ও শিশুদের জন্য ২৪/৭ জরুরি সেবা, নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার (NICU) এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত নার্সিং টিম রয়েছে। আমাদের ডাক্তার তালিকা দেখে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন, অথবা জরুরি অবস্থায় সরাসরি চলে আসুন।
📍 ঠিকানা: হাসপাতাল টাওয়ার, বাড়ি E-206/1, সাইনবোর্ড মোড়, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ-১৪৩০
📞 যোগাযোগ: +৮৮০ ১৮১৭৭৭৭৭২২, +৮৮০ ১৯৫৮৪৪৩৪৪০
🔗 যোগাযোগ পেজ
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি সাধারণ সচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি চিকিৎসকের সরাসরি পরামর্শের বিকল্প নয়। শিশুর অসুস্থতা বা কোনো ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
