নবজাতকের চোখের সমস্যা: লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকার
নবজাতকের চোখের সমস্যা নিয়ে অনেক মা-বাবাই উদ্বিগ্ন থাকেন, কারণ নবজাতকের চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জন্মের পর প্রথম কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর অধিকাংশই সাধারণত সাময়িক ও চিকিৎসাযোগ্য হলেও, সঠিক লক্ষণ চিনে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নবজাতকের দৃষ্টিশক্তি কেমন থাকে?
জন্মের পরপরই নবজাতকের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণভাবে বিকশিত থাকে না। বাচ্চা জন্মের কতদিন পর চোখে দেখতে পায় — এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, জন্মের পর থেকেই শিশু আলো ও কাছাকাছি বস্তু কিছুটা অনুভব করতে পারে, তবে স্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে সপ্তাহ ও মাসের ব্যবধানে বিকশিত হতে থাকে। এই বিকাশ প্রক্রিয়া প্রতিটি শিশুর ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
নবজাতকের চোখের সমস্যার সাধারণ লক্ষণ কী কী?
নবজাতকের চোখের সমস্যার লক্ষণ চেনার জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা যেতে পারে:
- চোখে অতিরিক্ত পিচুটি বা কেতুর জমা হওয়া
- চোখ লাল হয়ে যাওয়া
- চোখের পাতা ফোলা থাকা
- চোখ দিয়ে পানি পড়া
- চোখের কোনায় সাদা বা অস্বাভাবিক দাগ
- আলোর প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা
এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নবজাতকের চোখে কেতুর হওয়ার কারণ
নবজাতকের চোখে কেতুর বা পিচুটি জমার পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ থাকতে পারে:
- চোখের অশ্রুনালী (টিয়ার ডাক্ট) সম্পূর্ণভাবে খোলা না থাকা, যা নবজাতকদের মধ্যে তুলনামূলক সাধারণ একটি বিষয়
- চোখে হালকা সংক্রমণ
- জন্মের সময় চোখে জীবাণুর সংস্পর্শ
নবজাতকের চোখে কেতুর হলে করণীয় ও বাচ্চাদের চোখে পিচুটি হলে কী করণীয়?
- পরিষ্কার, ফোটানো ঠান্ডা পানি বা চিকিৎসক-নির্দেশিত দ্রবণ দিয়ে তুলা ভিজিয়ে চোখের বাইরের অংশ ভেতর থেকে বাইরের দিকে আলতোভাবে মুছুন
- প্রতিটি চোখের জন্য আলাদা তুলা ব্যবহার করুন, যাতে সংক্রমণ এক চোখ থেকে অন্য চোখে না ছড়ায়
- হাত পরিষ্কার রাখুন শিশুর চোখ স্পর্শ করার আগে ও পরে
- নিজে থেকে কোনো চোখের ড্রপ বা ওষুধ প্রয়োগ করবেন না — এটি সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত
- সমস্যা কয়েকদিনের মধ্যে না কমলে বা বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান
চোখের পাতা ফোলা হওয়ার কারণ ও চিকিৎসা
শিশুর চোখের পাতা ফোলা হওয়ার পেছনে সংক্রমণ, অ্যালার্জি বা অশ্রুনালীর সমস্যা থাকতে পারে। বাচ্চাদের চোখের নিচে ফোলা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা লালচেভাব, ব্যথা বা জ্বরের সাথে থাকলে তা আরও গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন, কারণ এটি অন্তর্নিহিত কোনো সংক্রমণের ইঙ্গিত হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে প্রকৃত কারণের ওপর, যা একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা শিশু বিশেষজ্ঞের পরীক্ষার মাধ্যমেই নির্ণয় করা সম্ভব।
বাচ্চাদের চোখের কোনায় সাদা হওয়ার কারণ ও চোখের পাতায় সাদা দাগ
চোখের কোনায় বা পাতায় সাদা দাগ বিভিন্ন কারণে দেখা দিতে পারে — যেমন শুকনো পিচুটি জমে থাকা, ত্বকের সাধারণ পরিবর্তন, বা কিছু ক্ষেত্রে চোখের গঠনগত বিষয়। এই ধরনের দাগ নিজে থেকে চিহ্নিত করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয় — চিকিৎসকের সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব।
শিশুদের চোখের এলার্জি
শিশুদের চোখে অ্যালার্জি দেখা দিলে সাধারণত চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পানি পড়া বা ফোলাভাবের মতো লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। ধুলাবালি, ধোঁয়া বা নির্দিষ্ট পরিবেশগত উপাদানের সংস্পর্শে এটি বেড়ে যেতে পারে। এলার্জিজনিত লক্ষণ নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা নেওয়া উচিত।
বাচ্চাদের চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস) হলে করণীয়
চোখ ওঠা সাধারণত সংক্রামক একটি সমস্যা, যা দ্রুত অন্য চোখে বা অন্য শিশুর মধ্যেও ছড়াতে পারে। এক্ষেত্রে করণীয়:
- আক্রান্ত চোখ স্পর্শ করার পর হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন
- শিশুর ব্যবহৃত তোয়ালে বা কাপড় আলাদা রাখুন
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ড্রপ ব্যবহার করবেন না
- লক্ষণ তীব্র হলে বা কয়েকদিনের মধ্যে না কমলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান
কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞ বা শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন:
- চোখ থেকে সবুজ বা হলুদ ঘন স্রাব হওয়া
- চোখের চারপাশে তীব্র লালচেভাব বা ফোলা
- শিশুর জ্বরসহ চোখের সমস্যা
- চোখ খুলতে সমস্যা হওয়া
- আলোর প্রতি অস্বাভাবিক সংবেদনশীলতা
আপনার নবজাতকের চোখের সমস্যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকলে যোগাযোগ করুন — Bangladesh Nobojatok Hospital, Signboard Mor, Shiddhirgonj, Narayanganj-1430 | ☎ +880 1817-777722।
