Blog

নবজাতকের জ্বর ও ঠান্ডা: লক্ষণ ও করণীয়

জ্বর বা ঠান্ডা লাগা শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু বয়স অনুযায়ী এর গুরুত্ব ও করণীয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই আর্টিকেলে নবজাতকের জ্বর ঠান্ডা থেকে শুরু করে একটু বড় শিশুর সাধারণ সর্দি-জ্বর পর্যন্ত — সবকিছু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যাতে অভিভাবকরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নবজাতকের জ্বর কেন আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ নবজাতকের (জন্মের ০-২৮ দিন) রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। এই বয়সে জ্বর সামান্য সংক্রমণের লক্ষণও হতে পারে, আবার গুরুতর সংক্রমণেরও একমাত্র লক্ষণ হতে পারে — বাইরে থেকে পার্থক্য বোঝা কঠিন। এই কারণেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে নবজাতকের জ্বরকে জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, বড় শিশুর সাধারণ জ্বরের মতো…

নবজাতকের ROP (রেটিনোপ্যাথি): লক্ষণ ও চিকিৎসা |

প্রি-ম্যাচিউর নবজাতকের চিকিৎসায় ফুসফুস, তাপমাত্রা ও পুষ্টির দিকে যতটা মনোযোগ দেওয়া হয়, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু অনেক সময় কম আলোচিত একটি বিষয় হলো চোখের স্বাস্থ্য। ROP (Retinopathy of Prematurity) এমন একটি অবস্থা, যা সময়মতো স্ক্রিনিং ও চিকিৎসা না করালে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধত্বের কারণ হতে পারে — অথচ সময়মতো শনাক্ত করলে এটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে চিকিৎসাযোগ্য। ROP কী? ROP হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে রেটিনার (চোখের পেছনের আলোক-সংবেদনশীল স্তর) রক্তনালীগুলো অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। গর্ভাবস্থায় রেটিনার রক্তনালী স্বাভাবিকভাবে গর্ভকালীন শেষ কয়েক সপ্তাহে সম্পূর্ণভাবে বিকশিত হয়। সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রে এই বিকাশ প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকে, এবং জন্মের পর তা অস্বাভাবিকভাবে এগোতে…

কাঙ্গারু মাদার কেয়ার (KMC)

আধুনিক নিওনেটাল চিকিৎসায় ইনকিউবেটর, ভেন্টিলেটর ও মনিটরের ভিড়ে কাঙ্গারু মাদার কেয়ার (KMC) শুনতে অনেকটা সেকেলে মনে হতে পারে — কিন্তু বাস্তবে এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কর্তৃক দৃঢ়ভাবে সমর্থিত, প্রমাণ-ভিত্তিক একটি পদ্ধতি, যা প্রি-ম্যাচিউর ও কম ওজনের নবজাতকদের জন্য উল্লেখযোগ্য উপকারিতা বয়ে আনে। এটি কোনো “বিকল্প চিকিৎসা” নয় — বরং আধুনিক নিওনেটাল কেয়ারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাঙ্গারু মাদার কেয়ার কী? কাঙ্গারু মাদার কেয়ার হলো একটি পদ্ধতি, যেখানে নবজাতককে (সাধারণত শুধু ডায়াপার পরিয়ে) মা বা বাবার খালি বুকের সাথে সরাসরি ত্বকে-ত্বকে সংস্পর্শে রাখা হয়, একটি কাপড় বা র‍্যাপার দিয়ে উভয়কে একসাথে ঢেকে। এটি মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়: ত্বকে-ত্বকে সংস্পর্শ — যতটা…

অপরিপক্ক নবজাতকের চিকিৎসা

অপরিপক্ক নবজাতকের চিকিৎসা একটি বিশেষায়িত, বহু-স্তরীয় প্রক্রিয়া, যেখানে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুর অপরিণত অঙ্গগুলোকে — বিশেষত ফুসফুস, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পরিপাকতন্ত্রকে — বাড়তি সহায়তা দিয়ে স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হওয়ার সময় দেওয়া হয়। সঠিক ও সময়মতো চিকিৎসায় অধিকাংশ অপরিপক্ক নবজাতকই সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। অপরিপক্ক নবজাতক কাকে বলা হয়? গর্ভাবস্থার ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম নেওয়া শিশুকে অপরিপক্ক বা প্রি-ম্যাচিউর নবজাতক বলা হয়। যত আগে জন্ম হয়, শিশুর অঙ্গ তত কম বিকশিত থাকে, এবং চিকিৎসাগত সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও তত বেশি হয়: লেট প্রি-ম্যাচিউর — ৩৪-৩৬ সপ্তাহ মডারেট প্রি-ম্যাচিউর — ৩২-৩৪ সপ্তাহ ভেরি প্রি-ম্যাচিউর — ২৮-৩২ সপ্তাহ এক্সট্রিমলি প্রি-ম্যাচিউর — ২৮ সপ্তাহের…

নবজাতকের হাই-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপি

শ্বাস সহায়তার সিঁড়িতে সাধারণ অক্সিজেন থেরাপি ও CPAP-এর মাঝামাঝি একটি অবস্থানে থাকে হাই-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপি, যাকে চিকিৎসাগতভাবে High-Flow Nasal Cannula (HFNC) বলা হয়। এটি অনেক নবজাতকের জন্য একটি আরামদায়ক অথচ কার্যকর বিকল্প, যা হালকা থেকে মাঝারি শ্বাসকষ্টে সহায়তা করতে পারে। হাই-ফ্লো অক্সিজেন থেরাপি কী? HFNC একটি পদ্ধতি, যেখানে উষ্ণ ও আর্দ্রীকৃত অক্সিজেন-বাতাসের মিশ্রণ নাকের মাধ্যমে সাধারণ অক্সিজেন থেরাপির চেয়ে অনেক বেশি প্রবাহ হারে দেওয়া হয়। সাধারণ নাসাল ক্যানুলার তুলনায় এতে একটু চওড়া প্রং ব্যবহার করা হয়, যা দিয়ে অনেক বেশি পরিমাণে বাতাস প্রবাহিত করা সম্ভব হয়। এটি কীভাবে কাজ করে? উচ্চ প্রবাহ হার শিশুর নিজস্ব শ্বাস নেওয়ার চাহিদা পূরণ করে,…

নবজাতকের CPAP

NICU-তে থাকা নবজাতকের মুখে বা নাকে একটি যন্ত্র লাগানো দেখে অনেক বাবা-মা প্রথমেই ভয় পেয়ে যান, ধরে নেন এটি বুঝি “ভেন্টিলেটর”। বাস্তবে এটি প্রায়ই হয় CPAP (কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার) — ভেন্টিলেটরের চেয়ে অনেক কম হস্তক্ষেপমূলক একটি পদ্ধতি, যা অনেক নবজাতককে সম্পূর্ণ মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন ছাড়াই সুস্থ হয়ে উঠতে সাহায্য করে। CPAP কী? CPAP একটি নন-ইনভেসিভ (শ্বাসনালীতে টিউব ঢোকানো ছাড়াই ব্যবহারযোগ্য) শ্বাস সহায়তা পদ্ধতি, যেখানে নাকের মাধ্যমে ক্রমাগত একটি মৃদু বাতাসের চাপ দেওয়া হয়। এই চাপ ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলিগুলোকে (alveoli) প্রতিটি শ্বাসের মাঝে বন্ধ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে, যা নবজাতকের নিজের শ্বাস নেওয়ার কাজকে অনেক সহজ করে তোলে। CPAP কীভাবে…

নবজাতকের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট

নিজের নবজাতককে ভেন্টিলেটরে দেখা একজন বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এটিই একটি গুরুতর অসুস্থ বা অত্যন্ত প্রি-ম্যাচিউর শিশুর ফুসফুসকে ঠিক সেই সময়টুকু ও সহায়তা দেয়, যা তার বিকশিত হয়ে সেরে ওঠার জন্য প্রয়োজন। আমাদের নবজাতকের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট সেবায় সবচেয়ে হালকা নন-ইনভেসিভ পদ্ধতি থেকে শুরু করে উন্নত মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন পর্যন্ত — শ্বাস সহায়তার সম্পূর্ণ পরিসর প্রদান করা হয়, যেসব নবজাতক নিজে থেকে পুরোপুরি শ্বাস নিতে পারছে না তাদের জন্য। কেন কিছু নবজাতকের ভেন্টিলেটর সাপোর্ট প্রয়োজন হয় রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেস সিনড্রোম (RDS) — প্রি-ম্যাচিউর শিশুদের মধ্যে সাধারণ, যাদের ফুসফুসে তখনো পর্যাপ্ত সারফ্যাক্ট্যান্ট (এমন একটি পদার্থ যা ফুসফুসের ক্ষুদ্র বায়ুথলি…

নবজাতকের ফটোথেরাপি

নবজাতকের ফটোথেরাপি: প্রক্রিয়া ও যত্ন নবজাতকের জন্ডিসের কথা শুনলেই অনেক অভিভাবকের মনে প্রথম যে চিকিৎসার নাম আসে তা হলো ফটোথেরাপি — বিশেষ নীল আলোর নিচে শিশুকে রাখার একটি পদ্ধতি। নামটা পরিচিত হলেও, প্রক্রিয়াটি আসলে কীভাবে কাজ করে, কতটা নিরাপদ, এবং এই সময় বাবা-মায়ের কী করণীয় — তা নিয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা থাকে না। এই আর্টিকেলে ফটোথেরাপির পুরো প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফটোথেরাপি কী? ফটোথেরাপি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ব্যবহার করে নবজাতকের রক্তে অতিরিক্ত বিলিরুবিনের মাত্রা কমানো হয়। এটি জন্ডিসের সবচেয়ে সাধারণ ও কার্যকর চিকিৎসাগুলোর একটি, এবং সারা বিশ্বে দশকের পর দশক…

বুকের দুধের জন্ডিস: লক্ষণ ও চিকিৎসা | নবজাতক হাসপাতাল

বুকের দুধের জন্ডিস: লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা নবজাতকের জন্ডিস অনেক ধরনের হতে পারে, এবং বুকের দুধের জন্ডিস (Breast Milk Jaundice) তার মধ্যে একটি বিশেষ ও প্রায়ই ভুল বোঝাবুঝির শিকার একটি ধরন। এটি সাধারণত সুস্থ, পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাওয়া শিশুদের মধ্যেও দেখা দিতে পারে এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে — যা অনেক মাকেই উদ্বিগ্ন করে তোলে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এই সময়টা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা এড়ানো সম্ভব। বুকের দুধের জন্ডিস কী? জন্মের পর নবজাতকের শরীরে অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে বিলিরুবিন নামক হলুদ পদার্থ তৈরি হয়, যা স্বাভাবিকভাবে লিভারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত হয়ে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। বুকের দুধের জন্ডিসে, মায়ের…

নবজাতকের দুধ শ্বাসনালীতে ঢোকা: বিপদ ও করণীয় | নবজাতক হাসপাতাল

নবজাতকের দুধ শ্বাসনালীতে ঢোকা: কেন বিপজ্জনক ও কী করবেন খাওয়ানোর সময় প্রায় প্রতিটি অভিভাবকই কখনো না কখনো দেখেছেন — শিশু হঠাৎ কেশে ওঠে, দুধ যেন ভুল পথে চলে যায়, কিছুক্ষণের জন্য অস্বস্তি হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি সাধারণ ও নিরাপদ। কিন্তু দুধ শ্বাসনালীতে ঢুকে যাওয়া (Aspiration) সাধারণ উগরে দেওয়ার (spit-up) চেয়ে আলাদা একটি বিষয় — এবং পার্থক্যটা চেনা এবং সেই মুহূর্তে কী করতে হবে তা জানা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দুধ শ্বাসনালীতে ঢোকা (Aspiration) কী? স্বাভাবিকভাবে দুধ গলা দিয়ে পাকস্থলীতে যাওয়ার কথা, কিন্তু কখনো কখনো তা শ্বাসনালী বা ফুসফুসের দিকে চলে যায় — একে বলা হয় অ্যাসপিরেশন। নবজাতকের চোষা, গেলা ও…